ব্রেকিং নিউজ
নান্দাইলে প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে! প্রবাসী স্বামীসহ গৃহবধূকে হাতেনাতে ধরার অভিযোগ খুলনায় পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ে দুদিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সুনামগঞ্জের নতুনপাড়ায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন শেরপুরে এনডিইএ’র নতুন নেতৃত্ব, জাহাঙ্গীর গুলজারের হাতে সাংগঠনিক দায়িত্ব সুনামগঞ্জে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি কলি তালুকদার আহ্বায়ক, বিমল বণিক সদস্য সচিব এক রাতেই শেষ কৃষকের স্বপ্ন, নান্দাইলে ৫০ শতক শিমক্ষেত নষ্ট
×

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯/৯/২০২৬, ১১:৪৬:৩৬ PM

নান্দাইলে প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে! প্রবাসী স্বামীসহ গৃহবধূকে হাতেনাতে ধরার অভিযোগ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রুবিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে তাঁর প্রবাসী দ্বিতীয় স্বামীসহ হাতেনাতে আটকের দাবি করেছেন প্রথম স্বামী শরীফ মিয়া। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে নান্দাইল উপজেলা হাসপাতালসংলগ্ন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রুবিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে তাঁর প্রবাসী দ্বিতীয় স্বামীসহ হাতেনাতে আটকের দাবি করেছেন প্রথম স্বামী শরীফ মিয়া। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে নান্দাইল উপজেলা হাসপাতালসংলগ্ন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ সালে নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের উদংমধুপুর গ্রামের শরীফ মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে রুবিনা আক্তারের বিয়ে হয়। শরীফ নরসিংদীতে বাবুর্চির কাজ করে স্ত্রী রুবিনার পড়াশোনাসহ সংসারের বিভিন্ন খরচ বহন করতেন বলে জানা গেছে।

দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

শরীফ মিয়ার অভিযোগ, পারিবারিক মনোমালিন্যের সুযোগ নিয়ে রুবিনা তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী হাফেজ আবু হানিফকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।বিষয়টি জানতে পেরে শরীফ লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে রুবিনাকে উকিল নোটিশ পাঠান বলে দাবি করেন। তবে রুবিনা বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে জানান তিনি।শনিবার রুবিনা তাঁর নতুন স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে নান্দাইল উপজেলা হাসপাতালসংলগ্ন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গেলে সেখানে শরীফ তাদের দেখতে পান। পরে তাদের আটকে রাখার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।

‘জীবনের সব উপার্জন দিয়েছি’—প্রথম স্বামীর অভিযোগ

শরীফ মিয়া বলেন,
“চাকরি করে যে টাকা উপার্জন করেছি, তার সবই রুবিনাকে দিয়েছি। আমাকে তালাক না দিয়েই গোপনে বিয়ে করে আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি আমার টাকা ফেরত ও ন্যায়বিচার চাই।”


তালাক দেওয়া হয়েছে—রুবিনার দাবি

তবে শরীফ মিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুবিনা আক্তার ও তাঁর বাবা আব্দুল কাইয়ূম। তাদের দাবি, শরীফকে কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাক দেওয়া হয়েছে। তবে সেই কাগজ শরীফের কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি তাদের দায়িত্ব নয় বলেও তারা জানান।ফলে রুবিনার প্রথম বিয়ে আইনগতভাবে বহাল ছিল কি না এবং দ্বিতীয় বিয়ের সময় বৈবাহিক সম্পর্কের আইনগত অবস্থান কী ছিল—তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

থানায় নেওয়া হলেও বাবার জিম্মায় রুবিনা

নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের থানায় আনা হয়েছিল। বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় রুবিনা আক্তারকে তাঁর বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম স্বামীর অভিযোগ, রুবিনার বক্তব্য এবং তালাকের দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।